মঙ্গলবার, ০১ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
ডেস্ক সংবাদঃ অপহরণ ও গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব-১ কার্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। র্যাবের হাতে গুমের শিকার ভুক্তভোগীরা শুক্রবার জুমার নামাজের পর সেখানে ব্যানার টানিয়ে বসে পড়েন। প্রধান উপদেষ্টাসহ গুম কমিশন সদস্যদের র্যাব-১ এর অভ্যন্তরে থাকা গুমঘর বা বিশেষ টর্চার সেল পরিদর্শনে আসার আগ পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটক আটকে শতাধিক ছাত্র, তরুণ এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক অবস্থান করছেন। ফটকে টানানো ব্যানারে লেখা রয়েছে ‘হাসিনা রেজিমের সব গোপন বন্দিশালা উন্মোচন, গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ভুক্তভোগীদের গণ-অবস্থান কর্মসূচি। কাউন্সিল এগেইনস্ট ইনজাস্টিস (সিএআই) নামে ভুক্তভোগীদের অনলাইন প্লাটফরমের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সংগঠনের সমন্বয়ক এবং চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হাটহাজারী মাদ্রাসার তরুণ শিক্ষক শের মোহাম্মদ বলেন, তিনি ২০২২ সালে র্যাবের হাতে গুমের শিকার হন। এই র্যাব-১ কার্যালয়ের ভেতরে এক বিশেষ টর্চার সেলে তাকে টানা ২৩ দিন আটকে রাখা হয়। পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলে দীর্ঘদিন তাকে হাজতবাস করতে হয়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে তারা সিএআই’র ব্যানারে ভুক্তভোগীদের নিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফরম গড়ে তোলেন। বর্তমানে গুমের শিকার সবাই বিচারের দাবিতে এখানে এসে একে একে জড়ো হয়েছেন।
শের মোহাম্মদ আরও বলেন, আমরা যারা এই র্যাব-১ কার্যালয়ে গুম ছিলাম, তারা হাসিনার পতনের পর এ নিয়ে তৃতীয় দফায় এখানে হাজির হয়েছি। আমরা চাচ্ছি-এখানে যে গুম সেলগুলো আছে সেগুলো উন্মোচন করা হোক। কারণ একেকটি গুম সেল গুরুতর সব অপরাধের জ্বলন্ত সাক্ষ্য। এগুলোকে যদি দ্রুত সবার সামনে উন্মোচন করা না যায়, তা হলে এর সঙ্গে জড়িত সব অপকর্ম চাপা দিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর আগে আমাদেরকে উন্মোচন করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাসেও এটা করা হয়নি।